মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মোস্তাফিজ ও বাবুল মিয়ানমারের গ্যং স্টারের বাংলাদেশি সহযোগি হোয়াইক্যং এর দালালরা অধরায়! সাড়ে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা টেকনাফে প্রবেশের অপেক্ষায়! হ্নীলা উম্মে সালমা মহিলা মাদরাসায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত আরো ৬৪ জন পালিয়ে এলো মিয়ানমার বিজিপি মিয়ানমারের ৫৮ সীমান্তরক্ষী পালিয়ে বিজিবির কাছে আত্মসমর্পণ! জেলা ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আজ হোয়াইক্যং লাতুরীখোলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা ভোট বর্জন করে সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখিয়েছে জনগণ চরমোনাই পীর
দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজারে আটকা পড়েছেন অর্ধলাখ পর্যটক

দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজারে আটকা পড়েছেন অর্ধলাখ পর্যটক

জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে হঠাৎ গণপরিবহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজার বেড়াতে এসে শুক্রবার ফিরে যাবার সিডিউল থাকা প্রায় অর্ধলাখ পর্যটক আটকা পড়েছে।

শনিবার যাদের বিশেষ কাজ রয়েছে সেসব পর্যটকদের অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় উড়োজাহাজে কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। যাদের সেই সামর্থ্য নেই তারা ছোট যানবাহনে কক্সবাজার ছাড়ার চেষ্টা চালান সারাদিন। কিন্তু অন্য সময়ের চেয়ে ভাড়া কয়েকগুণ হওয়ায় বিকেল পর্যন্ত তারা কক্সবাজার ত্যাগ করতে পারেননি। এদের অনেকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও সৈকতের বালিয়াড়ি ও আশপাশে হেটে সময় ব্যয় করছিলেন। যোগাযোগ করছিলেন রাতে বাস ছাড়বে কিনা।

পূর্বের মতো সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে বৃহস্পতি-শুক্র ও শনিবার হাতে রেখে কক্সবাজার এসেছেন লাখো পর্যটক। এদের মাঝে অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান বাৎসরিক অনুষ্ঠানের পূর্বের নির্ধারিত সময়ানুসারে কক্সবাজার এসেছেন বৃহস্পতিবার। আবার শুক্রবার ভোরেও পৌঁছান অনেকে। যারা শুক্রবার ফিরে যাবার সিডিউলে ছিলেন তারা এসেছিলেন আরও কয়েকদিন আগে।

এ ধরণের পর্যটক অর্ধলাখ হবে বলে ধারণা করছেন হোটেল সংশ্লিষ্টরা। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তারা নির্ধারিত সময়ে কক্সবাজার ছেড়ে যেতে পারেননি। তবে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলামের মতে, পর্যটক আটকা পড়ার বিষয়টি প্রশাসনকে কেউ জানায়নি। এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

আবার পূর্ব থেকে হোটেল রুম বুকিং দিয়ে যাদের শুক্রবার বিকেলে পৌঁছানোর কথা ছিলো, কিন্তু যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কক্সবাজারে ভ্রমণে আসতে পারেননি প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক। প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটক শুক্রবার-শনিবারের জন্য হোটেলের কক্ষ অগ্রিম বুকিং দিয়েছিলেন। কিন্তু রাতের বাস ও নিজস্ব গাড়িতে যাত্রাকরা ২০ হাজারের মতো শুক্রবার ভোরে কক্সবাজার পৌঁছালেও ভোরে যাত্রা করার কথা ভাবা অন্য পর্যটকরা শেষমেশ আসতে পারেননি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণপরিবহন, মালবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় পরিবহন সংগঠনের নেতারা। হঠাৎ যান চলাচল বন্ধের ঘোষণায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষুদ্র যানবাহন জেলা কেন্দ্রিক সড়ক বা চট্টগ্রামের পথে চলাচল করছে। তবে, সেসব যানবাহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দিগুণ টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

কক্সবাজারের রামুর জোয়ারিয়ানা এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রামে বসবাসকারী মুবিনুল হক বলেন, জরুরী কাজে বাড়ি আসার সিডিউল ছিলো শুক্রবার। কিন্তু হঠাৎ গণ ও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ হওয়ায় বেকায়দায় পড়েছি। এরপরও নতুন ব্রিজ এলাকায় এসে একটি মাইক্রোবাস পেলেও ২০০ টাকার ভাড়ায় দাবি করছিলো ৪০০ টাকা। তাও সরাসরি না গিয়ে লোকালে যাবে বলে জানিয়ে দিয়েছে চালক। ফলে বাড়ির জরুরী প্রোগ্রামে যোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

ফেনী এলাকার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আমিরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে কক্সবাজার আসেন গত মঙ্গলবার। রবিবার আবারো প্রবাসে ফিরে যাবেন বলে শুক্রবার সকালের বাসে কক্সবাজার ত্যাগ করার সিডিউল করে। কিন্তু সকালে হোটেল ছাড়লেও বাসে কক্সবাজার ত্যাগ করতে পারেননি। কিন্তু রবিবার বিদেশের ফ্লাইট ধরতে না পারলে বিমানের বিপুল টাকা লস যাবে তাই, বিকাল তিনটার বিমানে কক্সবাজার ত্যাগ করতে টিকেট নিয়েছেন বলে জানান তিনি। বেলা ১২টার দিকে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে কিটকট চেয়ারের পাশে লাগেজসহ দেখে কথার ছলে তিনি এসব শেয়ার করেন। তিনি বলেন, আরও অনেকে তার মতো সকালে যাবার জন্য অপেক্ষায় থেকেও যেতে পারেননি।

কক্সবাজার তাজ কর্পোরেশন এন্ড ট্রাভেলস সেন্টারের মালিক জানে আলম বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বিমান টিকেটের জন্য বেশ কিছু কুয়েরি এসেছে। অনেকে নগদে টিকেট করলেও অনেকে চাহিদার সাথে দামের সামঞ্জস্য না হওয়ায় টিকেট কাটেননি।

ফেডারেশন অব ট্যুরিজম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, হঠাৎ দূরপাল্লার বাস বন্ধ হওয়াতে পর্যটকরা চরম বেকাদায় পড়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।

কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, নিয়মানুসারে শুক্রবার-শনিবার কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বাড়তি থাকে। তাই শুক্রবারে ফেরার সিডিউলে ২০ হাজারের অধিক পর্যটক আটকে পড়ার বিষয়টি আমাদের অগোচরে রয়েছে। আর গণপরিবহন বন্ধের বিষয়টি জাতীয় ইস্যু। এ ব্যাপারে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত আসার কথা। এরপরও শুক্রবার রাতের অবস্থা দেখে আটকা পড়া পর্যটকদের বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

#

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Design By Rana