বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাজীদের জন্য মক্কায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে দাপটে জয়ে ফাইনালে পাকিস্তান ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় জলপাই জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন না হলে ১৫০ আসনে ইভিএম যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব নয় সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরণের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা উখিয়ার কুতুপালং ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এর ট্রানজিট সেন্টারে দুর্বৃত্তের গুলিঃ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন সাইফুল এইচএসসির প্রশ্নে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’! মন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক নতুন পোশাকে মাঠে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বাহিনী টেকনাফে ৫ সন্তানের জননীকে মারধরের ঘটনায় আত্মহত্যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন ও জেলা পুলিশের ’রুট আউট’ অভিযানে গ্রেফতার ৪১

প্রদীপের সহযোগী দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবি ভুক্তভোগি পরিবারের

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২, ১২.২০ এএম
  • ৫২৬ বার পঠিত
প্রসঙ্গ মেজর সিনহা হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ:
প্রদীপের সহযোগী দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবি ভুক্তভোগি পরিবারের
মুহাম্মদ তাহের নঈম::
ওসি প্রদীপের সর্বোচ্চ শাস্তি হউক এটাই ছিল টেকনাফের মানুষের একমাত্র দাবী।
টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী মৃত্যুদণ্ডাদেশের খবর শুনে খুশি হয়েছেন টেকনাফের শত শত ভুক্তভোগি পরিবার। আদালতের রায় যথাযথ এবং সন্তুষ্ট বলে ও মন্তব্য করেছন বেশিরভাগ মানুষ। তারা দ্রুত রায়ের কার্যকর চায়।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশের শাস্তির দাবিতে কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করছেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের স্বজনরা। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকে তারা এ মানববন্ধন করছেন। মানববন্ধনে বক্তারা ওসি প্রদীপের শাস্তির পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধের মিথ্যা মামলার প্রত্যাহার চেয়েছেন। একইসঙ্গে প্রদীপের সহযোগী দালালকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। গতকাল রায়ের দিন
স্বজন হারানোর পরিবার বিচার পাওয়ার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। তাই ওসি প্রদীপের হাতে নির্যাতিত ও হত্যা হওয়া স্বজনদের পরিবারের একটাই চাওয়া তার ‘ফাঁসি’। অবশেষে নিহতদের পরিবারের মানুষদের প্রতীক্ষার প্রহর শেষে সেই আশা পূরণ হয়েছে।
তবে এ মামলার রায়ে নয়, রায় কার্যকর হলে তবেই সন্তুষ্ট হবেন বলে জানিয়েছেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।
শারমিন বলেন, রায় ঘোষণা হয়েছে। যে দুইজনের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করেছিলাম তা পূরণ হয়েছে। তবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্টির কথা বলা যাবে না। কারণ যে সাতজনকে খালাস দেয়া হলো, আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, তাদেরও কিছুটা দায়বদ্ধতা ছিল। সে ক্ষেত্রে হয়তো তাদের কিছু সাজা হতে পারত বলে আমার মনে হয়।
দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষীদের জবানবন্দি, জেরা ও আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব, বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো. নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি সাতজন আসামি খালাস পেয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেজর সিনহা তার সহযোগী সিফাতকে নিয়ে টেকনাফের বাহারছড়ার নারিচবনিয়া মুইন্না পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়েছিলেন। তখন প্রদীপ ও লিয়াকত ‘ডাকাত’ বলে গণপিটুনি দিয়ে সিনহাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই এলাকার মাথাভাঙ্গা মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি দেখে ফেলায় হত্যাচেষ্টার মিশন ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশের সোর্স বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন মসজিদের ইমামকে ওসি প্রদীপের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকার অফার দেন। কিন্তু ইমাম জহিরুল এতে রাজি হননি।
তিনি আরও বলেন, ‘ওসি প্রদীপ পরিকল্পিতভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছে। হত্যার পরিকল্পনার কথা প্রদীপ ও লিয়াকতের পৃথক জিডিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এটি আমরা আদালতে সন্দেহতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা আদালতকে বলেছি আইনের পোশাক পরে আরও কেউ যাতে বেআইনি কাজ কাজ করার সাহস না পায়; সেজন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা আশা করি, আদালত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।
ফরিদুল আলমের ভাষ্যমতে, ‘ওসি প্রদীপ টেকনাফে চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার ও গুমসহ ধারাবাহিকভাবে নানা অপরাধ করে আসছিল। সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান ‘জাস্ট গো’ নামে ডকুমেন্টারি বানানোর সময় ভুক্তভোগীরা ওসি প্রদীপের অপরাধের বিষয়ে মেজরকে প্রতিবেদন করতে অনুরোধ করেন। তখন মেজর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন। সেই সঙ্গে প্রদীপের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি ওসি প্রদীপ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনার নীলনকশা তৈরি করে ওসি প্রদীপ।’
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।
২০২০ সালের ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ মামলার আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিন বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও সাত জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে। পাশাপাশি সিনহা নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং লে. কর্নেল মর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তাকে সদস্য করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।
২০২১ সালের ২৭ জুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চার জনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে জেরা সম্পন্ন হয় আট জনের। চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয় জনের। পঞ্চম দফায় ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের।
সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয় জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল। সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষে ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।#

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

banglawebs999991
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Bangla Webs