মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাজীদের জন্য মক্কায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে দাপটে জয়ে ফাইনালে পাকিস্তান ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় জলপাই জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন না হলে ১৫০ আসনে ইভিএম যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব নয় সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরণের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা উখিয়ার কুতুপালং ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এর ট্রানজিট সেন্টারে দুর্বৃত্তের গুলিঃ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন সাইফুল এইচএসসির প্রশ্নে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’! মন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক নতুন পোশাকে মাঠে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বাহিনী টেকনাফে ৫ সন্তানের জননীকে মারধরের ঘটনায় আত্মহত্যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন ও জেলা পুলিশের ’রুট আউট’ অভিযানে গ্রেফতার ৪১

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়ক: পর্যটনে অপার সম্ভাবনা

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০, ১০.৫০ এএম
  • ৭৭৭ বার পঠিত

পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ সড়ক করতে যাচ্ছে সরকার। কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত সমুদ্রের কোল ঘেঁষে কমবেশি ১৭০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি যুক্ত হবে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিদ্যমান ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে। ইতোমধ্যে এই সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ও নকশা তৈরির কাজ শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইটি ইন্টারন্যাশনাল। চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন ও নকশা পেতে এক বছর সময় লাগবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সড়ক নির্মাণ হলে এটি হবে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। এর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। এই সড়ক দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে। উন্মোচন হবে নতুন দিগন্তের। শুধু তাই নয়, বদলে যাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপক‚লীয় এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়ে ছিলেন, এই মেরিন ড্রাইভকে চট্টগ্রামের মিরসরাই পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের বেশ কয়েক বছর পর এখন নতুন করে টেকনাফ-মিরসরাই মেরিন ড্রাইভের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা তৈরির কাজ চলবে প্রায় এক বছর। আগামী বছরের অক্টোবরে এর প্রতিবেদন ও প্রাথমিক নকশা পাওয়া যাবে। তারপরই চ‚ড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। তিনি বলেন, এ রকম একটি প্রকল্পের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণ করা। এটা প্রথম কাজ।

সরকার কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ শেষ করেছে। বছর পাঁচেক আগে এ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এত দিনে বাকি প্রায় ১৭০ কিলোমিটার অর্থাৎ টেকনাফ থেকে মিরসরাই পর্যন্ত অংশে নানা জটিলতার কারণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করা যায়নি। চলতি বছরে কোভিড-১৯ এর কারণে এ প্রক্রিয়া আরেক দফা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে পেরেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

সওজ সূত্র জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এসএমইটি এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে একটা প্রাথমিক নকশা দেবে। এটির জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা পাওয়ার পরই জানা যাবে সড়কটি কত কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকার ১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ বা সমুদ্র ঘেঁষা সড়ক। এটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হবে। অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখবে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। ঘুরতে আসবেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।

এই মেরিন ড্রাইভ ঘিরে শুধু পর্যটন শিল্প থেকেই বছরে আয় করা সম্ভব হবে হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে কাঁচা পণ্যের ব্যবসা। বিশেষ করে বু ইকোনমি বা সামুদ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে। সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে সেটি কাজে লাগানো যেতে পারে এই মেরিন ড্রাইভ ব্যবহার করে। সমুদ্র থেকে যে পরিমাণ মৎস্য সম্পদ আহরণ করা হয় সেটি দ্রুততম সময়ে দেশের যে কোনো প্রান্তে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার চেহারাও পাল্টে যাবে। এর পাশাপাশি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন অর্থনৈতিক বেল্ট তৈরি হবে। সুরক্ষিত হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপক‚লীয় এলাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

banglawebs999991
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Bangla Webs