বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হাজীদের জন্য মক্কায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম হোটেল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে দাপটে জয়ে ফাইনালে পাকিস্তান ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় জলপাই জানুয়ারির মধ্যে অনুমোদন না হলে ১৫০ আসনে ইভিএম যন্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব নয় সরকারি কর্মকর্তাদের সব ধরণের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা উখিয়ার কুতুপালং ৪ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এর ট্রানজিট সেন্টারে দুর্বৃত্তের গুলিঃ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন সাইফুল এইচএসসির প্রশ্নে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’! মন্ত্রী বললেন ‘দুঃখজনক নতুন পোশাকে মাঠে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বাহিনী টেকনাফে ৫ সন্তানের জননীকে মারধরের ঘটনায় আত্মহত্যা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন ও জেলা পুলিশের ’রুট আউট’ অভিযানে গ্রেফতার ৪১

হোয়াইক্যং রেন্জ কর্মকর্তা ও রইক্ষ্যং বিট কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ মার্চ, ২০২১, ২.১০ এএম
  • ১০১৭ বার পঠিত

৬০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন নিয়ে রেন্জ কর্মকর্তা ও রইক্ষ্যং বিট কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি, ৪০ হেক্টর বনজসম্পদ উজাড় করে জনবসতি স্থাপন করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্য!

জিয়াউল হক জিয়া,নিজস্ব প্রতিবেদক::            রইক্ষ্যং এর ৬০ হেক্টর সামাজিক বনায়ন নিয়ে হোয়াইক্যং রেইন্জ কর্মকর্তা ও রইক্ষ্যং বিট কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘতর হচ্ছে। জানা যায়,
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং বিটের ২০০৩-২০০৪ এর সৃজিত ৬০ হেক্টর সামাজিক বাগান টিএফ ফান্ডের টাকা লুটপাট,বাগানের নতুন সদস্য নিয়োগের নামে অর্থ কেলেংকারী, বিট ও রেইন্জ কর্মকর্তা কর্তৃক উপকারভোগীদের সাথে অনৈতিক আচরণে ফুসে উঠেছে ৬০ হেক্টর বাগানের সকল উপকারভোগীরা। রইক্ষ্যং বিটের বিট কর্মকর্তা মঈনুউদ্দিনের চৌধুরী ও রেইন্জ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন এর অনিয়ম দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে অবশেষে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপকারভোগীরা।
গত ৬ মার্চ জুমাবার হোয়াইক্যং বাজারের এক হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ৬০ হেক্টর বাগানের উপকারভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন বাগান রক্ষা কমিটির সভাপতি মঈনুল ইসলাম বাবুল। এতে সাধারনণ সম্পাদক আইয়ুব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, সহ সভাতি মোঃ হামিদ, মোঃ ইদ্রিস,হাবিবুররমান সহ সকল উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সভাপতি বাবুল বলেন,সরকার ২০০৩ সালে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ৬ গ্রুপ লিডারের মাধ্যমে মোট ৬০ উপকারভোগীকে দলিল মূলে সৃজিত বাগান হস্তান্তর করে বন বিভাগ।২০০৫ সালে প্রথমে বনরক্ষা কমিটির সভাপতি নির্বাচন করে আবুল কাশেম কে। উপকারভোগীরা দীঘকাল পাহারাদার নিয়োগ দিয়ে প্রথম থিনিং,২য় থিনিং শেষে ১৩-১৪ সালে বাগানের শেষ থিনিং এ ৬৪ লাখ টাকার গাছ নিলামে বিক্রি হয়। চুক্তি অনুযায়ী উপকারভোগীরা ৪০ পার্সেন্ট, সরকার ৫০ পার্সেন্ট,বাকি ১০ পার্সেন্ট নতুন বাগান সৃজনের জন্য (টিএফএফ) ব্যাংকে জমা রাখা হয়। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাগান এলাকায় আশ্রয় নিলে বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তৎকালিন সভাপতি সিআইসি বরাবর ক্ষতিপূরণের আবেদন করলে ইউএনএইচসিআর বাগান সৃজনের সহায়তার হাত বাড়ায়। ২০২০ সালে তখন নতুন বাগান সৃজনের জন্য স্থানিয় রেইন্জ কর্মকর্তা,বিট কর্মকতার উদ্যোগে উপকারভোগীদের এক সভা আহবান করা হয়। সভায় নতুন কমিটির উপর গুরুত্বারূপ করা হলে মঈনুল ইসলাম কে সভাপতি,আইয়ুব চৌধুরী কে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি করার ১৫ দিন পর বাগান রক্ষা কমিটি,উপদেষ্টা কমিটির কাউকে কোন কিছু না বলে বিট ও রেইন্জ কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে বাগানে চারা রোপনের কাজ শুরু করে। বাগান রক্ষা কমিটি বাগান পরিদর্শনে গেলে ৮/১০ ফুট দুরত্বে ১ফুট,দেড় ও ২ ফুট সাইজের চারা দেখা যায়।বাগানে চাহিদা অনুযায়ী চারা রোপন করা হয়নি। চারা রোপনকালে বনরক্ষা কমিটির বা উপদেষ্টা কমিটির কাউকে অবহিত করা হয়নি। বাগান অর্ধেক চারা রোপন শেষে তখন আরও,মতিন,বিট অফিসার মাঈনুল কমিটির শরনাপন্ন হয়ে বৈঠক ডাকে। বৈঠকে বলা হয়,এনজিও সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বাজেট শেষ। তখন তারা উপকারভোগীদের জমাকৃত টিএফফান্ডের টাকা দিতে বলে। এক পর্যায়ে উপকারভোগীদের যৌথ স্বাক্ষরিত ব্যাংক এর ব্যালেন্ক চেক নেয়। পরে ব্যাংকের একাউন্ট চেক করে দেখা যায়,একাউন্ট শূন্য। তারা উভয় কর্মকর্তা মিলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে তারা কোন কাজে ব্যয় করেছে আমাদের জ্ঞাত করেনি। অথচ উপকারভোগীরা প্রায় ১০ লাখ টাকা উক্ত বাগানের খরচ করেছে,নতুন সদস্যদের ২লাখ ৫০ হাজার টাকার দায়ভার কে নিবে। অপরদিকে টিএফ ফান্ডের উক্ত টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে? আরও মতিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সদোত্তর না দিয়ে কিসের টাকা! আমার নিজস্ব ৪ লাখ টাকা বেশী খরচ হয়েছে বলে দাবী করে। ১ মাস পর দেখা যায়, কমিটির অগোচরে কোন পরামর্শ ছাড়াই ৬০ হেক্টর বাগানে নতুন সদস্য নেয়া হবে মর্মে মাইকে প্রচারণা চালায়। অবৈধ উপায়ে টাকা আত্মসাত করার মন মানসিকতা নিয়ে ভুমি দস্যুদের বাগান ইজারা দিতে নতুন সদস্য নিতে গোপনে ফরম বিক্রি করে। ৫ হাজার টাকা মূল্যে ৫০ জন কে ফরম বিতরণ করে ২লাখ ৫০ হাজার টাকা,আরো ২ শতাধিক ফরম বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে উক্ত সু-চতুর ২ কর্মকতার বিরুদ্ধে।
শুধু এখানে শেষ নয়, বাগান করার দোহাই দিয়ে পুরাতন উপকারীভোগীদের বাদ দিয়ে
একটি বৈধ কমিটি থাকা সত্বেও উক্ত কমিটি কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নতুন সদস্য নিয়োগ দেয়ার রহস্য কি? এমন প্রশ্নের উত্তর নেই তাদের কাছে।

সরকারী ৪০ হেক্টর বনজসম্পদ উজাড় করে জনবসতি স্থাপন করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্য করেছে উভয় কর্মকর্তারা। ২০০৩-২০০৪ সালের সৃজিত ৬০ হেক্টর বাগান দখল দিতে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সদস্য নিয়োগ দিচ্ছে পাইকারীভাবে। ফরম বিতরণের নামে টাকা লুটপাট,বৈধ বনরক্ষা কমিটি কে পাশ কাটিয়ে ইচ্চেমত বন উজাড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন দিয়ে সরকারী দায়িত্ব পালনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। এই অভিযোগ ৬০ হেক্টর বাগানের সভাপতি/সম্পাদক সহ সকলের বলে সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।#

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

banglawebs999991
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Bangla Webs